প্রত্যুপকার গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক ১
একবার লালু সামনে ছুটে যাচ্ছে, একবার পিছনে, একবার ডাইনে, একবার বাঁয়ে। সবুজ চোখগুলো যেন আমার চারদিকে ঘিরে ঘিরে লুকোচুরি খেলছে, আর লালু আমাকে বাঁচাচ্ছে সেই রাশি-রাশি ধারালো দাঁতের অন্ধ আদিম হিংসা থেকে। তিন মাস পড়ে থাকতে হয়েছিল আমাকে। বুকের পাঁজরার দুটো হাড় ভেঙে গিয়েছিল, খুলে গিয়েছিল বাঁ হাঁটুর জোড়াটা। তবু তার মধ্যে কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে বলেছিলুম, কেন মারলে- লালুকে কেন মারলে তুমি?
*পরীক্ষা দিতে কোনো রেজিস্ট্রেশন বা টাকার প্রয়োজন নেই। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।
উদ্দীপক ২
তারপর চেয়ে আসমান পানে বৃদ্ধ কহিল- “বাপ। শত্রুরে তোর তলোয়ার তলে পেয়েও করিনু মাফ। এতদিন পরে তোর হত্যার লইলাম প্রতিশোধ, খুনের নেশায় আর কবির না আখেরের পথরোধ।”
উদ্দীপক ৩
সকলের মুখ হাসি ভরা দেখে পার না মুছিতে নয়ন ধার? পরহিত ব্রতে পার না রাখিতে চাপিয়া আপন বিষাদ-ভার?
উদ্দীপক ৪
মারাঠা বীর সেনারা বুন্দেলখণ্ডের পরাজয় নিশ্চিত জেনে তাদেরকে সাহায্য করতে যুদ্ধে যোগদান করে। একপর্যায়ে বিপক্ষ দলের একজন মারাঠা সেনাপ্রধানকে পেছন থেকে আক্রমণ করতে আসে। এমন সময় বুন্দেলখণ্ডের রাজকন্যা সেনাপ্রধানের জীবন বাঁচান। সেনাপ্রধান রাজকন্যাকে ধন্যবাদ জানালে রাজকন্যা বলেন, আপনার জন্য আমরা যুদ্ধ জয় করতে পেরেছি, আপনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আপনার জীবন বাঁচাতে আমাদের প্রত্যেকের জীবন বাজি রাখতে প্রস্তুত।
উদ্দীপক ৫
বাবা আমাদের চোখের সামনে পর পর দুটি গুলি করে কুকুরটিকে মারলেন। আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম বাবা দুঃখে বেদনায় কুঁকড়ে উঠেছেন। তবু শান্ত গলায় বললেন, যে আমার ছেলের জীবন রক্ষা করেছে তাকে আমি গুলি করে মারলাম।
উদ্দীপক ৬
চুরির অভিযোগে কিছুলোক জনৈক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের ইউনিয়ন পরিষদে হাজির করল। ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি চৌকিদার আমজাদকে ডেকে নির্দেশ দিলেন বন্দিকে তার বাড়িতে রাখতে। ঘটনাক্রমে আমজাদ জানতে পারলেন, বন্দি ব্যক্তি আর কেউ নয়, সে দশ বছর আগে আমজাদের সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছিল, নিজ গৃহে নিয়ে গিয়ে আহত সন্তানের সেবা করেছিল। কিন্তু আমজাদ নিজের ক্ষতি হবে ভেবে না চেনার ভান করে চুপ করে রইল।
উদ্দীপক ৭
রবিন আজ অনেক বড় ব্যবসায়ী। টাকা-পয়সা, গাড়ি-বাড়ি কোনোকিছুর অভাব নেই। একমাত্র অসুস্থ ভাইয়ের চিকিৎসায় সে এগিয়ে না গিয়ে নিশ্চুপ বসে থাকে। ভুলে যায় ভাইয়ের অবদানের কথা। এই ভাই তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিল একদিন।
উদ্দীপক ৮
‘গ্রামের প্রভাবশালী চেয়ারম্যানের চাকর রফিক। বন্যাকবলিত, মানুষদের সাহায্যের জন্য ত্রাণসামগ্রী এলে চেয়ারম্যান সেগুলো মজুদ করে রাখেন। এ বিষয়টি রফিক জানার পরে গ্রামের মানুষদের সব বলে দিতে চায়। তখন চেয়ারম্যান রফিককে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তারপরও রফিক সত্য প্রকাশে বিরত হয় না। সে ভাবে, প্রাণ গেলেও জনগণের অধিকার আমি ক্ষুণ্ণ হতে দেব না। সত্যের পথ থেকে আমি বিচলিত হব না। তারপর সে গ্রামবাসীকে সব বলে দেয় এবং সবাইকে নিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন