১. ‘পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার’—কথাটি দ্বারা লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: ‘পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার’
কথাটি দ্বারা লেখক বোঝাতে চেয়েছেন, সুভার বোবা হওয়ার কারণে তার পিতা-মাতা তার ভবিষ্যৎ
নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সুভার শারীরিক ত্রুটির জন্য সমাজে তাকে বিবাহযোগ্য কন্যা
হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা কঠিন ছিল। এই দুশ্চিন্তা প্রকাশ না করলেও, তা তাদের মনে সর্বদা
একটি ভার হয়ে ছিল। বিশেষত, সমাজের চাপ এবং সুভার প্রতি মায়ের বিরক্তি এই মানসিক বোঝাকে
আরও তীব্র করে তুলেছিল। সুভা নিজেও তাদের এই চাপ এবং লজ্জার অনুভূতি উপলব্ধি করত, যা
তাকে আরও নিঃসঙ্গ এবং নির্লিপ্ত করে তুলেছিল।
২. মা সুভাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করত কেন?
উত্তর: সুভা প্রতিবন্ধী, তাই তার
মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করত।
বাক্প্রতিবন্ধী সুভার কথা বলার ক্ষমতা নেই বলে সে সবার কাছে মূল্যহীন ও অপ্রয়োজনীয়।
মায়েরা সন্তানদের সব সময়ই নিজের একটা অংশ মনে করে। পুত্র সন্তানের চেয়ে কন্যা সন্তানের
ক্ষেত্রে তাদের এ বোধটি আরও প্রবল হয়ে থাকে। মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ার জন্য সুভার মা নিজেকেই
‘দায়ী বলে ভাবত। তাই সুভাকে সে গর্ভের কলঙ্ক মনে করত এবং তার ওপর বিরক্তিবোধ করত।
৩. সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করত কেন?
উত্তর: প্রতিবন্ধীতার কারণে সুভাকে
নিয়ে তার পরিবারের লোকজন বড়ই উদ্বেগ ছিল বলে সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করত। সুভা
কথা বলতে না পারলেও বাইরের জগতের সবকিছু সে অনুভব করত। সুভার এ ধরনের অনুভূতি প্রখরতার
পরিচয় না জেনে অনেকেই তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করত। ছোটবেলা থেকেই পরিবার ও বাইরের জগতের
মানুষের কাছে বিরূপ আচরণের শিকার হতে হতে সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপ ভাবতে শুরু করে।
৪. গোসাইদের ছোট ছেলেটির পরিচয় দাও।
উত্তর: গোসাইদের ছোট ছেলেটির নাম প্রতাপ। যে নিতান্তই অকর্মণ্য। সে সংসারের
কোনো কাজ করে না। তার দ্বারা সংসারের কোনো উন্নতি হবে এ আশা ভরসা তার বাবা-মা একেবারেই
ছেড়ে দিয়েছেন। তবে প্রতাপের একটা শখ ছিলো, তা হলো ছিপ ফেলে মাছ ধরা। অপরাহ্নে তাকে
প্রায়ই এই কাজ করতে দেখা যেত। সুভার সঙ্গে তার বেশ সখ্যতা গড়ে ওঠেছিল। তার মধ্যে ছিল
আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসার মতো হৃদয়।
৫. সুভা নিজেকে সর্বদা গোপন রাখার চেষ্টা করত কেন?
উত্তর: প্রতিবন্ধী সুভা বুঝতে পারে সমাজ-সংসার তাকে বোঝা মনে করে তাই সব
সময় সে নিজেকে গোপন রাখার চেষ্টা করত।
সুভা বোবা ছিল বলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায় ছিল। কথা না বলতে পারলেও তার
মধ্যে যে এক ধরনের অনুভূতি শক্তি আছে এ কথাটি কেউ ভাবত না। শিশুকাল থেকেই সুভা বুঝে
গিয়েছিল যে, সংসারে সে কারো কাছেই সুদৃষ্টিপ্রাপ্ত নয়। এর ফলে তার ভেতরে এক ধরনের হীনমন্যতা
তৈরি হয়েছিল। তাই সে নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করত।
*পরীক্ষা দিতে কোনো রেজিস্ট্রেশন বা টাকার প্রয়োজন নেই। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।
৬. সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করত কেন?
উত্তর: প্রতিবন্ধিতার কারণে সুভাকে নিয়ে পরিবার-পরিজনদের উদ্বেগ লক্ষ করেই সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করত। সুভা কথা বলতে না পারলেও অনুভব করতে পারত সব। এ ব্যাপারটি না বুঝে অনেকে সুভার সামনেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানাবিধ দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত। ছোটবেলা থেকেই নিজের বিরূপ সমালোচনা শুনতে শুনতেই সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করা শুরু করে।
৭. সুভার মুখে ভাষা না থাকলেও ভাবের স্ফুরণ ঘটেছে কীভাবে? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: অতলস্পর্শ গভীর চোখের ভাষার প্রভাবে সুভার মুখে ভাষা না থাকলেও
ভাবের স্ফুরণ ঘটেছে। সুভাষিণী নাম হওয়া সত্ত্বেও সুভার মুখে ভাষা ছিল না। সে ছিল বাক্প্রতিবন্ধী।
কিন্তু কালো গভীর চোখের ভাষা কখনো এতটাই উদার হয়ে ওঠে যে, মনের কথার ছায়া মুখেও ফেলে।
সুভার ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল। মুখে ভাষা না থাকলেও কালো গভীর চোখ কখনো প্রসারিত কখনো
মুদিত হয়ে, স্ফুরিত হয়ে উঠত তার মনের ভাব।
৮. সুভাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো কেন?
উত্তর: লোকলজ্জার ভয় ও বিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে সুভাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার
উদ্যোগ নেওয়া হলো। সুভার বয়স ক্রমেই বেড়ে চলছিল। তৎকালীন সমাজে তার বয়সের মেয়েদের বিয়ে
না হলে তা নিয়ে নিন্দা করা হতো। সুভা বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে বিয়ে করতে রাজি হয় না
কেউ।
ফলে তার পরিবারকে নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকে। উপরন্তু সুভার বাবা সচ্ছল গৃহস্থ হওয়ায়
তার কিছু শত্রুও ছিল। তাদের প্ররোচনায় পরিবারটিকে একঘরে করা হবে বলেও গুজব ছড়ায়। এ
কারণেই সুভাকে বিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো।
৯. মেয়েকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বাণীকন্ঠের কপোলে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল কেন?
উত্তর: মেয়ের প্রতি অসীম ভালোবাসার জন্য তাকে সান্ত¡না দিতে গিয়ে বাণীকন্ঠের
কপোলে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
বাক্প্রতিবন্ধী সুভাকে কেউ ভালোবাসে না। এমনকি মা-ও তার ওপর এতটাই বিরক্ত যে, তিনি
সুভাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন। কিন্তু সুভার বাবা বাণীকণ্ঠ ডাকে অন্য মেয়েদের
তুলনায় বেশি স্নেহ করেন। তিনি বুঝতে পারেন নিজের বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় যেতে সুভার অনেক
কষ্ট হবে। মেয়ের বেদনায় নিজেও জর্জরিত হয়েছিলেন বলেই তাকে সান্ত¡না দিতে গিয়ে বাণীকন্ঠের
কপোল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
১০. সুভা কলকাতায় যেতে চায় না কেন?
উত্তর: বাকপ্রতিবন্ধী সুভার মাঝে তার বাড়ির প্রতি রয়েছে গভীর মমত্ববোধ।
বাড়ির চারপাশের প্রকৃতির সাথে সে করে নিয়েছে মিতালি। বোবা হওয়ার কারণে তার তেমন কোনো
বন্ধু নেই। গোয়ালের দুটি গাভী, ছাগল, বিড়ালশাবক আর মানবসমাজের অন্তর্ভুক্ত প্রতাপ তার
নিত্য সহচর। এদেরকে ছেড়ে কলকাতায় অনিশ্চয়তাভরা জীবনকে মেনে নিতে সায় দেয় না সুভার মন।
এ সব কারণে সুভা কলকাতায় যেতে চায় না
*পরীক্ষা দিতে কোনো রেজিস্ট্রেশন বা টাকার প্রয়োজন নেই। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন